লেখক, অধ্যক্ষ ড. মুফতী মুহাম্মাদ আবু ইউছুফ খান
ভূমিকা বিশ্ব আজ নানা ধরনের সংকটে জর্জরিত। যুদ্ধ-বিগ্রহ, সন্ত্রাস, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শরণার্থী সংকট, জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ, পরিবেশ বিপর্যয়, নৈতিক অবক্ষয় এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস মানবসভ্যতার শান্তি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। এসব সংকটের সমাধানে শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার সমন্বিত ব্যবস্থা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) এর জীবন ও সুন্নাহ মানবজাতির জন্য এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আদর্শ উপস্থাপন করেছে, যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবমর্যাদা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ব বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ “আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।” -সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:১০৭ অতএব, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) এর নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা:- বিশ্বের অধিকাংশ সংঘাত ও সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ অন্যায় ও বৈষম্য। ইসলাম সব মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন— ﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ﴾ “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।” —সূরা আন-নাহল, ১৬:৯০ ন্যায়বিচার কোনো ব্যক্তি, জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। ন্যায় প্রতিষ্ঠা হলে বৈষম্য, শোষণ ও সংঘাতের অনেক কারণ দূর হয়ে যায়।
২. শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধের পরিবর্তে সমঝোতা:- ইসলামের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা। কোনো পক্ষ শান্তির দিকে এগিয়ে এলে তার সুযোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন— وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ “তারা যদি শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।” —সূরা আল-আনফাল, ৮:৬১ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর মদিনার জীবনেও আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে চুক্তি, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। তাই যুদ্ধকে প্রথম সমাধান না বানিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথ অনুসরণ করা জরুরি।
৩. মানবজীবনের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা:- নিরপরাধ মানুষের হত্যা, সন্ত্রাস ও সহিংসতা বৈশ্বিক সংকটকে আরও গভীর করে। ইসলাম মানবজীবনের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন— ﴿مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا﴾ “যে ব্যক্তি কোনো প্রাণকে হত্যা করল—প্রাণের বিনিময় বা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা ছাড়া—সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।” —সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৩২ বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মানুষের জান, মাল ও সম্মানের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। ফলে বৈশ্বিক শান্তির অন্যতম ভিত্তি হলো মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৪. মানবিক ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক ভালোবাসা:- জাতি, বর্ণ, ভাষা ও ভূখণ্ডের কারণে মানুষের মধ্যে বৈরিতা সৃষ্টি করা ইসলামের আদর্শ নয়। আল্লাহ বলেন— ﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا﴾ “হে মানবজাতি! আমি তোমাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারো।” —সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩ রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) বলেছেন— «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ أَوْ لِجَارِهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ» “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পূর্ণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাই অথবা প্রতিবেশীর জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” —সহিহ মুসলিম, ৪৫ (Sunnah) এই নীতি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রয়োগ করা গেলে জাতি ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
৫. শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা:- দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় সংকট। ইসলাম সম্পদের সুষম বণ্টন, যাকাত, সদকা এবং অসহায় মানুষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ বলেন— كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ “যাতে তা তোমাদের মধ্যে কেবল বিত্তশালীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।” —সূরা আল-হাশর, ৫৯:৭ একই সঙ্গে ইসলাম সুদ, প্রতারণা, অন্যায় উপার্জন ও শোষণমূলক অর্থনৈতিক আচরণ নিষিদ্ধ করেছে।
৬. দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মোকাবিলায় মানবিক সহযোগিতা:- ক্ষুধার্ত, দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তিনি (সাঃ) বলেছেন— «مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ» “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন; আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের একটি বিপদ দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি বিপদ দূর করবেন।” —সহিহ মুসলিম, ২৫৮০ এ শিক্ষা মানবিক সহায়তা, দাতব্য কার্যক্রম ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি হতে পারে।
৭. জুলুম, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা:- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জুলুমকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি (সাঃ) বলেছেন— «الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ» “এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই; সে তার ওপর জুলুম করে না, তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয় না এবং তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে না।” —সহিহ মুসলিম, ২৫৬৪ এই নীতি বৃহত্তর মানবিক অর্থে দুর্বল ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়।
৮. গুজব, মিথ্যা সংবাদ ও ঘৃণার প্রচারণা বন্ধ করা:- বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, অপবাদ ও বিদ্বেষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا “হে মুমিনগণ! কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে এলে তোমরা তা যাচাই করে নাও।” —সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:৬ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন— «كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ» “কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়।” —সহিহ মুসলিম, মুকাদ্দিমা অতএব, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল যোগাযোগ বৈশ্বিক শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৯. পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ:- বৈশ্বিক সংকট কোনো একক ব্যক্তি বা রাষ্ট্র একা সমাধান করতে পারে না। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। আল্লাহ বলেন- وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না।” —সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:২ এই আয়াত বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে—কল্যাণে সহযোগিতা এবং অন্যায়ে অসহযোগিতা।
১০. প্রতিবেশী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা:- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিবেশীর অধিকারকে এত গুরুত্ব দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন— «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنْ إِلَى جَارِهِ» “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে।” —সহিহ মুসলিম, ৪৭ আজকের বিশ্বে প্রতিবেশী রাষ্ট্র, শরণার্থী, সংখ্যালঘু, দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এই শিক্ষার বিস্তৃত প্রয়োগ হতে পারে।
১১. ক্ষমা, সহনশীলতা ও সংলাপের সংস্কৃতি:- দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধানে প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা, ধৈর্য ও সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন— وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ “তারা যেন ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন?” —সূরা আন-নূর, ২৪:২২ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনে মক্কা বিজয়ের সময় ক্ষমা ও উদারতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, তা সংঘাত-পরবর্তী পুনর্মিলনের এক অনন্য আদর্শ।
১২. পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ:- জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় আজ বৈশ্বিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। ইসলাম অপচয় ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেন— ﴿وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا﴾ “পৃথিবীকে সংশোধনের পর তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।” —সূরা আল-আ‘রাফ, ৭:৫৬ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বৃক্ষরোপণ, পানি সংরক্ষণ এবং অপচয় পরিহারে উৎসাহ দিয়েছেন। ফলে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা তাঁর ﷺ সামগ্রিক জীবনাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৩. নৈতিক নেতৃত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা:- বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের পেছনে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহির অভাব বড় ভূমিকা রাখে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নেতৃত্বকে আমানত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন— كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” —সহিহ বুখারি, ৭১৩৮; সহিহ মুসলিম, ১৮২৯ সুতরাং নৈতিকতা, যোগ্যতা, আমানতদারি ও জবাবদিহির ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা বৈশ্বিক সংকট নিরসনের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
১৪. জ্ঞান ও শিক্ষার প্রসার:- অজ্ঞতা অনেক সামাজিক সংকটের মূল কারণ। কুরআন জ্ঞানার্জনের গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। আল্লাহ বলেন— وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا “বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।” —সূরা ত্ব-হা, ২০:১১৪ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)জ্ঞানার্জনের মর্যাদা ঘোষণা করে বলেছেন— «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ» “যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।” —সহিহ মুসলিম, ২৬৯৯ অতএব, বিজ্ঞান, শিক্ষা, গবেষণা ও নৈতিক জ্ঞানচর্চার সমন্বয় বিশ্বকে স্থিতিশীল ও কল্যাণমুখী করতে পারে। বৈশ্বিক সংকটের প্রকৃতি বহুমাত্রিক হলেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশনায় এর মোকাবিলার জন্য একটি সুসংহত নৈতিক কাঠামো রয়েছে। ন্যায়বিচার, শান্তি, মানবমর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, দারিদ্র্য বিমোচন, জ্ঞানচর্চা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্ষমা, সহনশীলতা এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব—এসবই তাঁর জীবনাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন— «مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ الْوَاحِدِ» “মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত একটি দেহের মতো।” —সহিহ মুসলিম, ২৫৮৬
আজকের বিশ্বে যদি এই শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত জীবনে নয়, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাস্তবায়ন করা হয়, তবে সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়, বিদ্বেষের পরিবর্তে সহমর্মিতা এবং শোষণের পরিবর্তে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। অতএব, বৈশ্বিক সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর রহমত, ন্যায়, শান্তি ও মানবকল্যাণভিত্তিক আদর্শকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রাসুল (সাঃ ) আদর্শ অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন । আমীন।